https://www.revenuecpmgate.com/zhwnwibncq?key=914ea04740af2e1e7e9534dc51bc3d07
তকদীর কি? তকদীর কি আসলেই দরকার? কোরআন ও হাদিসের আলোকে
তকদীরের সংজ্ঞা
তকদীর শব্দের অর্থ হলো পূর্বনির্ধারণ, মাপজোখ বা ভাগ্য। ইসলামী পরিভাষায় তকদীর বলতে বোঝায়, আল্লাহর চিরন্তন জ্ঞান ও ইচ্ছার অধীনে বিশ্বজগতের প্রতিটি বিষয় নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা চিরকাল আগে থেকেই জানেন কোন মানুষ কখন জন্ম নেবে, কতদিন বাঁচবে, কোন কাজ করবে এবং কেমন পরিণতি লাভ করবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষকে জোরপূর্বক একটি পথে ঠেলে দেওয়া হয়; বরং মানুষকেও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
https://www.revenuecpmgate.com/zhwnwibncq?key=914ea04740af2e1e7e9534dc51bc3d07কোরআনে তকদীরের গুরুত্ব
কোরআনে বহু জায়গায় আল্লাহ তকদীরের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন—
-
আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি সবকিছু নির্দিষ্ট পরিমাণে সৃষ্টি করেছি।”(সূরা আল-কামার, ৫৪:৪৯) -
আবার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে:
“পৃথিবীতে কোনো বিপদ ঘটে না কিংবা তোমাদের নিজেদের মধ্যেও নয়, যা আমি ঘটাইনি একটি নির্দিষ্ট লিখিত আদেশ ছাড়া। এ নিশ্চয়ই আল্লাহর জন্য সহজ।”(সূরা হাদীদ, ৫৭:২২)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে দুনিয়ায় যা ঘটে তা আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। এমনকি ছোট একটি ঘটনা থেকেও আল্লাহ অবগত।
হাদিসে তকদীর
রাসূলুল্লাহ ﷺ তকদীর বিশ্বাসকে ঈমানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
-
হাদিসে কুদসি:নবী ﷺ বলেন,“প্রথম যে জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। তিনি কলমকে বললেন: লিখো। কলম বলল: কী লিখব? আল্লাহ বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সব লিখে ফেলো।”(আবু দাউদ, তিরমিজি)
-
অপর একটি হাদিসে রাসূল ﷺ বলেন:
“তুমি যদি সাহায্য চাও, আল্লাহর কাছে চাও। আর জেনে রাখো, যদি সমগ্র মানবজাতি তোমাকে কোনো উপকার করতে চায়, আল্লাহর লিখিত বিধান ছাড়া তারা তা করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহর নির্ধারণ ছাড়া তা করতে পারবে না।”(তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৬)
এখানে স্পষ্ট যে মানুষের ভাগ্য আল্লাহর হাতে নির্ধারিত।
https://www.revenuecpmgate.com/zhwnwibncq?key=914ea04740af2e1e7e9534dc51bc3d07তকদীরের দরকার কেন?
এখন প্রশ্ন আসে, তকদীর বিশ্বাস করা আসলেই কেন জরুরি?
১. ঈমানের পরিপূর্ণতা
তকদীর বিশ্বাস ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের একটি। কোরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে, তকদীর অস্বীকার করলে ঈমান পূর্ণ হয় না। তাই এর প্রয়োজনীয়তা ইসলামী আকিদার মৌলিক ভিত্তি হিসেবে অপরিহার্য।
২. মানসিক প্রশান্তি
মানুষ জীবনে সুখ-দুঃখ, সাফল্য-বিফলতা, রোগ-ব্যাধি প্রভৃতি নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। যদি কেউ বিশ্বাস করে সবকিছু আল্লাহর হিকমতে নির্ধারিত, তাহলে সে হতাশায় ভেঙে পড়ে না, বরং ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে জীবনযাপন করে।
৩. অহংকার দূর করে
মানুষ যখন সাফল্য পায়, তখন অনেক সময় অহংকারে পড়ে যায়। কিন্তু তকদীরের বিশ্বাস মানুষকে শেখায়—এ সাফল্য শুধু তার নিজের সামর্থ্যে নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারণ ও অনুগ্রহে এসেছে। এতে মানুষ বিনয়ী থাকে।
৪. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
দুঃখ-কষ্ট আসলে মানুষ ধৈর্য ধারণ করে এবং ভালো কিছু পেলে আল্লাহর শোকর আদায় করে। এভাবেই জীবন সমতা ও ভারসাম্যে চলতে থাকে।
মানুষ ও তকদীরের সম্পর্ক
ইসলামে মানুষকে শুধু ভাগ্যের খেলনা বলা হয়নি। বরং কোরআন বারবার বলেছে মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে। যেমন—
-
আল্লাহ বলেন:
“যে সৎকাজ করবে তা তার নিজের জন্য, আর যে মন্দ কাজ করবে তা তার নিজের বিপক্ষে।”(সূরা জাসিয়া, ৪৫:১৫)
অতএব, মানুষকে নেক-সওয়াব কিংবা গুনাহের জন্য দায় নিতে হবে। আল্লাহ জানেন কে কী করবে, তবে সেই কাজ করার স্বাধীনতা মানুষকেই দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি সূর্য আগামীকাল উদিত হবে। এটি জেনে রাখাই আল্লাহর জ্ঞান, কিন্তু সূর্যের ওঠা তারই সৃষ্টি করা বিধান। একইভাবে আল্লাহ জানেন কোন মানুষ কী করবে, কিন্তু তা মানুষকেই করতে হয়।
https://www.revenuecpmgate.com/zhwnwibncq?key=914ea04740af2e1e7e9534dc51bc3d07ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করে তকদীর মানে হলো মানুষ কোনো চেষ্টা করবে না, শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করবে। এটি ভুল ধারণা। রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তুমি কাজ করো, প্রত্যেককে তার জন্যই সহজ করে দেওয়া হয়েছে যা তার জন্য নির্ধারিত।”(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৪৭)
অতএব, চেষ্টা ও পরিশ্রম করাই আমাদের কর্তব্য। সফলতা আসবে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী।
উপসংহার
তকদীর ইসলামী আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা মানুষকে সঠিক বিশ্বাস, মানসিক শান্তি এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে শেখায়। এটি অস্বীকার করলে ঈমান অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তকদীর মানুষকে শিক্ষা দেয় ধৈর্য ধরতে, কৃতজ্ঞ হতে, অহংকার ত্যাগ করতে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখতে। তবে একই সঙ্গে আল্লাহ মানুষকে দায়িত্বশীল করেছে, যাতে সে সঠিক পথ বেছে নিতে পারে। তাই বলা যায়—তকদীর শুধু দরকারই নয়, বরং ইসলামী জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি।
.png)
Post a Comment